মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি....
“সরকারের দিক-নির্দেশনা মেনে চলি, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করি।” অনলাইন নিউজ পোর্টাল “আজকের দিগন্ত ডট কম” এর পক্ষ থেকে আপনাকে জানাচ্ছি স্বাগতম , সর্বশেষ সংবাদ জানতে এখনই ভিজিট করুন “আজকের দিগন্ত ডট কম” (www.ajkerdiganta.com) । বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য পরিশ্রমী, মেধাবী এবং সাহসী প্রতিনিধি আবশ্যক, নিউজ ও সিভি পাঠানোর ঠিকানাঃ-- ajkerdiganta@gmail.com // “ধুমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, আসুন আমরা মাদক’কে না বলি”
সংবাদ শিরোনাম....

কৃষি যান্ত্রিকীকরণের দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ-কর্মশালায় কৃষিমন্ত্রী

কৃষি যান্ত্রিকীকরণের দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ-কর্মশালায় কৃষিমন্ত্রী

 

 

 

অনলাইন ডেস্কঃ বাস্তবায়ন করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে কৃষি প্রকৌশল উইং স্থাপন মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমেরিকার কানসাস স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় যৌথভাবে ‘ফিড দ্য ফিউচার’ কর্মসূচি ও ইউএসএআইডি (USAID) এর অর্থায়নে ‘অ্যাপ্রোপ্রিয়েট স্কেল মেকানাইজেশন ইনোভেশন হাব-বাংলাদেশ (আসমি) গবেষণা প্রকল্পটি বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করেছে।

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকল্পের বার্ষিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় জুম প্লাটফর্মে। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

বার্ষিক কর্মশালার প্রথম পর্বে প্রকল্পের উদ্দেশ্য নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আসমি-বাংলাদেশ প্রকল্প এর প্রকল্প পরিচালক ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগ এর প্রফেসর ড. মো: মঞ্জুরুল আলম।

তিনি তাঁর প্রবন্ধে উল্লেখ করেন- আসমি প্রকল্প গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জন্য লাগসই আধুনিক ধানের চারা রোপণের যন্ত্র বা রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, ধান কর্তনের যন্ত্র রিপার ও কম্বাইন হারভেস্টার, মাটির গুণাগুণ রক্ষাকারী কৃষি যন্ত্র (বীজ বপন যন্ত্র, বেড প্লান্টার) এবং এক্সিয়াল ফ্লো পাম্প ও সোলার পাম্প চিহ্নিত করে কৃষক পর্যায়ে এর ব্যবহার উৎসাহিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সময় ও খরচ সাশ্রয়ী এবং কম শ্রমিক প্রয়োজন হয় বিধায় এসব যন্ত্র ব্যবহারের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ দারুনভাবে বাড়ছে। বাংলাদেশ সরকারের কৃষি যান্ত্রিকীকরণ কার্যক্রমকে বেগবান করতে আসমি প্রকল্প কৃষকের মাঠে যন্ত্রপাতি চালনা, রক্ষণাবেক্ষন, মেরামত ও এ সংক্রান্ত ব্যবসা সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের কাছে প্রযুক্তিসমূহ পরিচিতকরণসহ যন্ত্রগুলোর সফল ও দীর্ঘমেয়াদী প্রচলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তিনি প্রবন্ধের সুপারিশমালায় কৃষি যন্ত্রপাতির স্থানীয় সেবা প্রদানকারী, অপারেটর, মেকানিক ও স্থানীয় ওয়ার্কশপের পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষন, ব্যবসা ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধি; সমগ্র মৌসুম জুড়ে স্থানীয় সেবা প্রদানকারীদের পরামর্শ প্রদানের উপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টেকনিকেল স্কুল ও কলেজ (টিএসসি) ও টেকনিকেল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) গুলোতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের উপর ডিপ্লোমা ও কোর্স চালুকরণ ও শক্তিশালীকরণের পরামর্শ দেন প্রকল্প পরিচালক। আবশ্যিকভাবে কৃষি যন্ত্রপাতি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের দ্রুত ও কার্যকর বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদান; দেশব্যাপি জিআইএস ম্যাপিং এর মাধ্যমে লাগসই কৃষিযন্ত্র প্রবর্তন ও সেবা প্রদানের গতিশীলতার কৌশল চিহ্নিতকরণে পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

সরকারী-বেসরকারী ব্যাংক হতে কৃষি যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে অন্ততঃ ১৫% ঋণ বিতরণে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান এবং বাংলাদেশ সরকারের কার্যকর ও সফল কৃষি যান্ত্রিকীকরণ কৌশল বাস্তবায়নের জন্য অতি দ্রুত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে কৃষি প্রকৌশলী নিয়োগ প্রদানের বিষয়ও উল্লেখ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, এমপি বলেন, কৃষি উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে খামার যান্ত্রিকীকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের কৃষি কাজের প্রতিটি ধাপে লাগসই কৃষি যন্ত্রের প্রয়োগ খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে। ধান উৎপাদনে রোপনের সময় শ্রমিক সংকটসহ শ্রমিকের বাড়তি মজুরী ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি করে অপরদিকে উৎপাদন ব্যাহত করে। অন্যদিকে, আমাদের দেশে সনাতন পদ্ধতিতে অসংখ্য শ্রমিকের কাঠোর পরিশ্রমে, বহু শ্রম ঘন্টার বিনিময়ে ধান কাটা, মাড়াই-ঝাড়াই করা হয়। এরপরেও ফসল কাটার মৌসুমে ঝড়, শিলাবৃষ্টি, পাহাড়ী ঢল ও অকাল বন্যার শঙ্কা থাকে। ফলে সৃষ্টি হয় শ্রমিকের তীব্র সংকট, মজুরী বেড়ে যায় কয়েকগুন; ধানের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় এবং সমূহ ক্ষতির মুখে পড়ে কৃষক। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের বিকল্প নেই বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী বলেন, লাভজনক কৃষির জন্য ভৌগলিক অবস্থার প্রেক্ষিতে কৃষিপরিবেশ অঞ্চল ভিত্তিক একেক এলাকায় একেক ধরনের কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার করতে হবে। ইতোমধ্যে সরকার “জাতীয় কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতিমালা ২০২০” প্রণয়ন করেছে যা আগামীদিনে বাংলাদেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনে পথ প্রদর্শন করবে। সম্প্রতি বাংলাদেশে লাগসই কৃষি যন্ত্রপাতি জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নির্দেশনায় ৩০২০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।

এখান থেকে বিশেষ ভর্তূকির ভিত্তিতে কৃষকদের মাঝে চারা রোপণের যন্ত্র বা ট্রান্সপ্লান্টার, কর্তনের যন্ত্র রিপার ও কম্বাইন হারভেস্টার, মাটির গুনাগুন রক্ষাকারী বীজ বপন যন্ত্র এবং শস্য শুকানো যন্ত্রসহ প্রয়োজনীয়তার নিরিখে অন্যান্য যন্ত্র প্রদান করা হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের কৃষকদের জন্য লাগসই কৃষি যন্ত্রপাতি যেমন, ট্রান্সপ্লান্টার, কম্বাইন হারভেস্টার ও মাটির গুনাগুন রক্ষাকারী বীজ বপন যন্ত্র ইত্যাদি কৃষি যন্ত্রপাতি চিহ্নিতকরণে সম্ভাব্য সমাধান হতে পারে আসমি প্রকল্প।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বাস্তবায়ন করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে কৃষি প্রকৌশল উইং স্থাপন হয়েছে। সেখানে কৃষি প্রকৌশলীরা সফলভাবে কাজ করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশ আগামী দিনে শুধুমাত্র আমদানীকৃত কৃষি যন্ত্রপাতির উপর নির্ভর না করে বরং আভ্যন্তরীন চাহিদা মিটিয়ে কৃষি যন্ত্রপাতির রফতানীকারক দেশে পরিনত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এক্ষেত্রে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারী সম্প্রসারণ প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে একত্রে যৌথভাবে লাগসই দেশীয় কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবনে গবেষণা, উদ্ভাবিত যন্ত্রের উন্নয়ন ও জনপ্রিয়করণের কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান, বিশেষ অতিথি হিসেবে আমেরিকার কানসাস স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. পি ভি ভারা প্রসাদ (P. V. Vara Prasad) এবং আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের প্রফেসর ড. প্রশান্ত কুমার কালিতা (Prasanta Kumar Kalita) সেশন চেয়ার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিতীয় পর্বে প্রকল্প নিয়ে প্যানেল আলোচনায় বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের এমিরিটাস প্রফেসর ড. এম. এ. সাত্তার মন্ডল, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান ড. ওয়ায়েস কবীর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাক্তন মহাপরিচালক মোঃ হামিদুর রহমান প্রমুখ।

কর্মশালার সমাপনী টেনেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ জসিম উদ্দিন খান এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মোঃ নাজিরুল ইসলাম। আলোচনা শেষে বিশেষজ্ঞ আলোচকগণ একমত পোষন করেন যে, সম্মিলিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের যৌথ কর্মসূচির মাধ্যমে লাগসই কৃষি যন্ত্রপাতির প্রবর্তন, গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ দূর্যোগ ও শ্রমিক সংকটকালে দেশে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন করতে শস্যের ফলন বৃদ্ধি ও মূল্যবান ফসল উত্তোলন নিশ্চিত করবে।

কর্মশালার সকল পর্বের অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকবৃন্দ, কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গবেষক/কর্মকতাবৃন্দ, ছাত্র, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ দুই শতাধিক ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতাসংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এর প্রতিনিধিগণও কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

খবরটি শেয়ার করুন....



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অনুসন্ধান



বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন

করোনা ইনফো (কোভিড-১৯)

 

 

 

 

 

 

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ
  • ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
  • ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
  • ৫:২৮ অপরাহ্ণ
  • ৬:৪২ অপরাহ্ণ
  • ৬:০০ পূর্বাহ্ণ

ফটো গ্যালারি



জনপ্রিয় পুরাতন হিন্দি গান

জনপ্রিয় বাউল গান




ইউটিউব চ্যানেল

সর্বশেষ সংবাদ জানতে



আমরা জনতার সাথে......“আজকের দিগন্ত ডট কম”

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত “আজকের দিগন্ত ডট কম”।  অনলাইন নিউজ পোর্টালটি  বাংলাদেশ তথ্য মন্ত্রনালয়ে জাতীয় নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন।

Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Shares